শনিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

‘ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে ফায়দা বিপুল’

০৩-এপ্রি-২০২১ | jonmobhumi | 314 views

Spread the love

সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে। কিন্তু বিষয়টি নির্ভর করেছে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল বিন ফারহান আল-সউদ।

সাক্ষাৎকারে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে তা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিপুল ফায়দা বয়ে আনবে। ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে তা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরো বলেন, ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকরণে জন্য কোনো চুক্তি করা তখনই সম্ভব হবে যখন ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি হবে। আর যার মাধ্যমে ১৯৬৭ সাল পূর্ব সীমানা অনুসারে ফিলিস্তিন স্বাধীন সার্বভৌম দেশে পরিণত হবে।

ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, ‘আমি জানি না কোনো চুক্তি বাস্তব হবে কি না, সেটা নির্ভর করবে শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর। সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের একটি চুক্তি আলোচনার টেবিলে আছে, যেটি ২০০২ সাল থেকেই প্রক্রিয়াধীন। এটি আরব শান্তি পরিকল্পনা হিসেবে পরিচিত। এর আগেও আমাদের ‘ফেজ উদ্যোগ’ ছিল। ১৯৮২ সালে সৌদি আরব এ উদ্যোগটি গ্রহণ করে। এখানে একটি প্রত্যাশা শুরু হয় যে ফিলিস্তিন ইস্যুর সমাধানের বিনিময়ে ইসরাইলের সাথে একটি সম্পর্ক স্বাভাবিকরণের প্রক্রিয়া পূর্ণ উদ্যোমে চালু হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘এই অঞ্চলে (ইসরাইলের সাথে) সম্পর্ক স্বাভাবিকরণ তখনই সফল হবে যখন আমরা ফিলিস্তিন ইস্যুর সমাধান করতে পারব। আমরা যদি ফিলিস্তিনকে ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুসারে স্বাধীন সার্বভৌম দেশে পরিণত করতে পারি যা ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা ও অধিকার দেবে।। আমরা যদি এ বিষয়ে কোনো সমাধান খুঁজে পাই, তাহলে আমরা একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আরো সমৃদ্ধশালী অঞ্চল পাবো। এই সম্পর্ক স্বাভাবিকরণ প্রক্রিয়া সফল করতে ইসরাইলসহ প্রত্যেকেই অবদান রাখতে পারে।

মক্কায় ইসরাইলি মুসলিমদের হজ পালনের অনুমতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও এ বিষয়টিতে একমত হইনি। কিন্তু, আমি বলতে চাই, যদি আমরা ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে অগ্রগতি লাভ করতে পারি, তখন আমরা এ বিষয়টি নিয়ে সামনে অগ্রসর হব। আশা করি, শুধুমাত্র মুসলিম নয়, ইসরাইলের যেকোনো বিশ্বাসের নাগরিক সৌদি আরবে আসতে পারবেন। তাদেরকে স্বাগত জানানো হবে।’

গত বছর সেপ্টেম্বরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে চুক্তি স্বাক্ষর করে। ‘ইবরাহীমি চুক্তি’ নামে পরিচিতি পাওয়া ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ভিত্তিতে আরব দেশ দুইটি ইহুদিবাদী দেশটির সাথে কূটনীতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে।

এর আগে ইসরাইলের সাথে প্রথম আরব রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৭৯ সালে মিসর স্বাভাবিক কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে ১৯৯৪ সালে জর্দান ইসরাইলের সাথে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপরেই তৃতীয় ও চতুর্থ আরব রাষ্ট্র হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরাইরের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই পথ ধরে সুদান ও মরক্কো ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে।

সূত্র : আরব নিউজ

সার্চ/অনুসন্ধান করুন