বুধবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

কেউ বহিরাগত নয়, সবাই ভারতমাতার সন্তান : মোদি

২৪-মার্চ-২০২১ | jonmobhumi | 343 views

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট আর মাত্র তিন দিন বাকি। তার আগে শেষবেলায় প্রচারে ঝড় তুলতে অধিকারী-গড় বলে পরিচিত কাঁথিতে বিজেপির জনসভায় বুধবার এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন সভায় উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী এবং তার বাবা এমপি শিশির অধিকারী। একনজরে দেখে নিন কী বললেন নরেন্দ্র মোদি-

স্বাধীনতার ৭৫ বছর পালনে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। এই ভোটে যাঁরা প্রথমবার ভোট দেবেন, তাদের জন্যও এই সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুবদের সামনে আগামী ২৫ বছরের পশ্চিমবঙ্গ নির্মাণের দায়িত্ব। তার জন্যই আসল পরিবর্তনের প্রয়োজন। সোনার বাংলা গড়ার কথা এখানকার সবাই শুনছেন। বাংলার প্রতি ঘর থেকে, সবার মুখে একটাই আওয়াজ উঠছে। ২ মে, দিদি যাচ্ছে।

দিদি এখনো তাদের কাছে জবাব দিতে পারেননি, যাদের ঘর বাড়ি শেষ হয়ে গিয়েছিল আমফানে। তারপর তাদের জন্য যে অনুদান পাঠানো হয়েছিল, সেটা ভাইপো উইন্ডোতে আটকে গিয়েছিল। আজ পশ্চিমবঙ্গ প্রশ্ন করছে, আমফানের টাকা, চাল কে লুটে নিল? আমফানে ক্ষতিগ্রস্তরা এখনো কেন ভাঙাচোরা ঘরে বসবাস করছেন? জবাব দিন দিদি।

যখন প্রয়োজন, তখন দিদি দেখেন না। আর ভোট আসলে উনি বলেন, দুয়ারে সরকার। এটাই আপনার খেলা। পশ্চিমবঙ্গের শিশুরা পর্যন্ত আপনার খেলা বুঝে গিয়েছে। এই জন্যই ২ মে দিদিকে দুয়ার দেখিয়ে দেবে সবাই। মানুষ আপনাকে দরজা দেখিয়ে দেবে।

বিজেপি কর্মীরা খুন হয়েছেন। তার সাজা তো পাবেনই। কিন্তু তার আগেই রাজ্যের মা-বোনেরা আপনাদের শাস্তি দেবেন। পায়ে হেঁটে বেরিয়ে আসবেন মহিলারা। হাজার হাজার মানুষ বেরিয়ে এসেছেন। দিদি আপনি শুনতে না পেলে, দেখে নিন। এই ছবিই এর প্রমাণ, পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা মনস্থির করে নিয়েছেন। তৃণমূলের খেলা শেষ হবে। উন্নয়ন শুরু হবে।

পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, এখানকার মানুষের বিকাশ হল বিজেপির একমাত্র সংকল্প। পশ্চিবঙ্গের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমরা প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করব। এটা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি। পশ্চিবঙ্গ চায় শিক্ষা, শিল্প, কর্মসংস্থান, বাংলা চায় নারী সুরক্ষা, বাংলা চায় কৃষক সুরক্ষা, বাংলা চায় বিজেপি সরকার।

রাজ্যে সমস্ত প্রকল্পে কাটমানি বন্ধ করবে বিজেপি। উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা দেবে বিজেপি। মাঝখানে দালাল, ফড়ে কেউ থাকবে না। কোনো তোলাবাজি থাকবে না।

কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাড়ি বাড়ি শৌচালয় দিয়েছে, বিদ্যুৎ দিয়েছে, গ্যাস দিয়েছে। করোনার সময় মহিলাদের আর্থিক সাহায্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি দেয়া হয়েছে। পানি দেয়ার জন্য ‘ঘর ঘর পানি’ প্রকল্পের কাজ করছে। কিন্তু এখানকার সরকার সে সব করতেই দিচ্ছে না। তৃণমূল সরকারের আপনাদের জন্য কোনো চিন্তা নেই।

মেদিনীপুর ভারতের কৃষিতে অনেক বড় স্থান নিয়ে আছে। এখানে চিংড়ির অত্যাধুনিক চাষ হচ্ছে। কিন্তু দিদি এখানে কৃষকদের ফুড প্রসেসিং, কোল্ড স্টোরেজের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন।

বাংলার কৃষকরা ভোলেননি, কী ভাবে দিদি ওঁদের সাথে নির্মমতা দেখিয়েছেন। দিদি আপনাদের কিষাণ সম্মান নিধি থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন। কৃষকদের কাছে পৌঁছতে দিচ্ছে না তৃণমূল সরকার। সরকার কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু দিদি কৃষকদের শত্রু হয়ে বসে রয়েছেন।

তাই ২ মে সব বাধার দেয়াল ভেঙে যাবে। বিজেপি সরকার আসবে। আর কৃষকদের তিন বছরের টাকা তাদের দেবই আমি। গত ৩ বছরের যে টাকা দিদি আপনাদের দিতে দেননি, আমি আপনাদের দেবই।
যে পশ্চিমবঙ্গ পুরো ভারতকে বন্দে মাতরম শিখিয়েছে, দিদি সেই পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে বহিরাগত বলছেন? বঙ্কিমচন্দ্র, বিদ্যাসাগররা বলেছেন, আমরা সবাই ভারতমাতার সন্তান। এখানে কোনো ভারতবাসী বহিরাগত নয়। সবাই ভারতমাতার সন্তান।

যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গুরুদেব সব ভারতবাসীকে এক মালা পরিয়েছিলেন, এই পশ্চিবঙ্গ থেকেই যে গুরুদেব পাঞ্জাব সিন্ধু গুজরাত মারাঠা দ্রাবিড় উৎকল বঙ্গ বলেছিলেন, আমরা সেটাই বলি সব সময়। সেই পশ্চিবঙ্গ আপনি বহিরাগতর কথা বলছেন দিদি?

ট্যুরিস্ট বলা হচ্ছে, আমাদের অপমান করা হচ্ছে। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই ভূমিতে কাউকে বহিরাগত হিসেবে দেখতেন না। পশ্চিবঙ্গে যে বিজেপির সরকার আপনারা বানাতে চলেছেন, তার মুখ্যমন্ত্রী এখানকার ভূমিপুত্রই হবেন।

এখানে নন্দীগ্রামের বদনাম করার জন্য একটার পর একটা মিথ্যে কথা বলে চলেছেন। নন্দীগ্রাম আপনাকে অনেক কিছু দিয়েছে। সেই নন্দীগ্রামের মানুষেরই বদনাম করছেন? পুরো ভারতবর্ষে তাদের বদনাম করছেন। নন্দীগ্রামের স্বাভিমানী মানুষ এর জবাব দেবেন।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

সার্চ/অনুসন্ধান করুন