শুক্রবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ক্রীড়াবিদরা যখন দেশের দূত, বিষয়টা ভেবে দেখা উচিত।

২৬-নভে-২০২০ | jonmobhumi | 140 views

Spread the love

সেই স্কুলে পড়াকালীন  বাংলা রচনা বই ছাড়াও বিশেষকরে প্রতিবছর  স্কুলের বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতার(Anual Sports) উদ্বোধনী অনুস্ঠানে হেড স্যারসহ সব স্যারদের মুখে এই মূল্যবান উক্তিটি শুনতাম “একজন ক্রীড়াবিদ  একটি দেশের রাস্ট্রদূত”’ একজন ক্রীড়াবিদ দেশের শুধু গৌরবই নন রাস্ট্রের  অনন্য সম্পদ, উদাহরন: ব্রাজিলের কালো মানিক খ্যাত (Edson Arantes do Nascimiento) ওরফে পেলে, আর্জেন্টিনার সোনার ছেলে দিয়াগো আরমান্দো মারাদোনা, অস্টেলিয়ার প্রয়াত   ক্রিকেটার   স্যার ডন ব্রাডম্যান, ভারতের সদ্য অবসর নেয়া  ক্রিকেট ঈশ্বর  খ্যাত শচীন টেন্ডুলকর,  আবার,  টেনিস জগতে বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ বাছাই সুইজারল্যান্ডের রজার ফেদেরার, সার্ভিয়ান নোভাক জোকোভিচ ও স্পেনের রাফা নাদাল  প্রমুখ। এই  বিশ্ববরন্য ক্রীড়াবিদরা যুগ যুগ ধরে   মহাসন্মান ও শ্রদ্ধার সাথে তাদের নিজ নিজ  দেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন এবং ঐদেশের রাস্ট্রিয় পতাকায়ও তাদের পরিচয় বহন করে।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশ এখনো ঐ উচ্চতায় যদিও যেতে পারেনি তবে যৎ সামান্য চেস্টা করছে। সারা পৃথিবীতে অনেক জনপ্রিয় খেলাধুলা থাকলেও    আন্তর্জাতিকক্রীড়াঙ্গনে  বাংলাদেশকে  ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে তাহলো ক্রিকেট। অতান্ত গৌরবের বিষয় বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম এক ক্রিকেটার বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান এবং এমুহুর্তে রয়েছে বেশকিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড়, বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যে performance তাতে আশাকরা যাচ্ছে অদুর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল  স্থায়ীভাবে সুদৃঢ়  অবস্থানে চলে যাবে, যা দেশ ও জাতির জন্য অতান্ত গর্বের বিষয়।

আলোর পেছনেই অন্ধকার, অর্থাৎ আমরা আমাদের এই গর্বিত ক্রীড়াবিদ  বিশেষ করে ক্রিকেটারদের নিয়ে বেশকিছু সমস্যায় দিনাতিপাত করছি। জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই মফস্বল শহরের, উপজেলা বা গ্রাম থেকে উঠে আসা নিজ প্রতিভায় উদ্ভাসিত।  কেউ বা পারিবারিক অসচ্ছলতার কারনে ঠিকমত লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেনি বা সুযোগ পায়নি যারজন্য ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার ক্রিকেটারদের চেয়ে ভাষাগত দিক দিয়ে বিশেষকরে ইংরেজী বলা বা সাক্ষাত্কার দিতে অতি মাত্রায় দুর্বল এবং অসহায়। দুঃখজনক বিষয় এইযে, কিছু খেলোয়াড় ভাষাগতভাবে এতটাই অজ্ঞ যে, সে তার  জেলার আন্চলিক  ভাষা ব্যতিত Smartly শুদ্ধ বাংলায়ও কথা বলতে জানেনা যা খুবই দৃষ্টিকটু এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে।

সম্প্রতি দেশসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান নিষেধজ্ঞা কাটিয়ে খেলায় ফিরেছে, তার অপরাধটা ছিল জুয়াড়ীদের সাথে কথপোকথন এবং সময়মতো ICC কে এবিষয়ে তথ্য উপাত্ত সহ অবহিত নাকরার ব্যার্থতা, সম্ভবত  অন্যতম কারন ঐ   ভাষাগত দুর্বলতা বা ইংরেজীতে দক্ষতার অভাব । সাকিব আল হাসানের আরো যে সমস্যা প্রকটভাবে ফুঁটে উঠেছে,     তাহলো যতটা না সে বিশ্ব মানের একজন ক্রীড়াবিদ তার চেয়ে অতি মাত্রায় ধার্মিক, তার আচরনে ব্যক্তিত্ব হীনতা বিদ্যমান, ফুটে উঠেছে ধর্মান্ধতার প্রভাব,  প্রাতিস্ঠানিক শিক্ষার তীব্র অভাব কারন ধর্ম আর খেলাধুলা যে এক বিষয় নয? এটার পার্থক্য নিরপণে ব্যর্থতা।

গেল সপ্তাহে কলকাতার এক মন্দিরে সনাতন ধর্মালম্বীদের কালীপূজো অনুস্ঠান উদ্বোধন করে সাকিব আল হাসান।একজন ধর্মপ্রান মুসলিম হয়ে কেন ভারতে পূজো অনুস্ঠান উদ্বোধন করেছে এই কারনে  ঐদিন  বাংলাদেশের মুসলিম মৌলবাদীদের দেয়া  হত্যার হুমকি পান এবং ভয়ে সন্ত্রস্থ হয়ে সাকিব প্রথমে পুজোনুস্ঠান উদ্বোধন করা অস্বীকার ও পরবর্তীতে মৌলবাদীদের ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আমার প্রশ্ন হলো? সাকিব আল হাসান কোন শ্রেনীর ক্রীড়াবিদ? আর কোন Category র রাস্ট্রদূত?

মাননীয় সরকার প্রধান বা ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের প্রতি অনুরোধ,
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে যে বা যেসব খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব করতে পাঠাবেন, অনুশীলনের পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা,ভদ্রতা ও বিনয়ী আচরনের পাঠটা সমানভাবে শেখাবেন, (উদাহরন: এমুহর্তে ইউরোপিয়ান নেসনস ফুটবল কাপ চলছে, খেলা শেষে মিডিয়ার  সামনে যেকোন একজন খেলোয়াড়কে  Press briefing পাঠানো হয়, ঐ খেলোয়াড় বিনয় ও  দক্ষতার সাথে সাংবাদিকদের প্রতিটি প্রশ্নের উ্ত্তর দিচ্ছে)। অতি দ্রুততার সাথে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়ন, পরিমার্জন পরিশোধন নাকরলে?  সাকিব আল হাসানের মতো দেশের ভাবমুর্তিও ক্ষুন্ন হবে এবং  ঘাটে ঘাটে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া কোন পথ নাই।


বিভাস মল্লিক
নিউ ইর্য়ক।

সার্চ/অনুসন্ধান করুন