বুধবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

গুগলের দেয়া তথ্যে গ্রেফতার শিশু যৌন নিপীড়ক

৩১-জানু-২০২১ | jonmobhumi | 325 views

Spread the love

মোবাইলে ধারণ করে রাখা শিশু যৌন নির্যাতনের একটি ভিডিও শনাক্ত করে গুগল। এরপর গুগলের দেয়া তথ্যে বরিশালের সেই নিপীড়ককে গ্রেফতার করেছে সিআইডি পুলিশ।

অপরাধ তথ্য বিভাগ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল মাসুদ বলছেন, এনসিএমইসির সাথে যুক্ত হওয়ার পর থেকে তারা আমাদের অনেক তথ্য দিচ্ছে।

‘আমরা সেগুলো যাচাই বাছাই করে দেখি। তার কিছু থাকে ইন্টেলিজেন্স, কিছু সতর্কতামূলক, কিছু সরাসরি শিশুদের নির্যাতনের। আমরা সেগুলো যাচাই বাছাই করে বিভিন্ন ঘটনায় পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

মোবাইলে শিশু নিপীড়নের তথ্যটি ইন্টারনেটে সংযুক্ত মোবাইল ডিভাইসে রাখার পরেই শনাক্ত করে ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগল। এরপর গুগল সেটি জানায় ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেনের (এনসিএমইসি)।

তারা এই তথ্যটি বাংলাদেশের সিআইডির কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

এরপর সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন বিভাগ ওই নিপীড়ককে শনাক্ত করে গ্রেফতার করে।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন (এনসিএমইসি) যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান – যারা শিশু যৌন নির্যাতন ও শিশু পর্নোগ্রাফি বন্ধে কাজ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত গুগল, ফেসবুকের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নেটওয়ার্কে শিশুদের যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য এ প্রতিষ্ঠানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে থাকে। তারা সেসব তথ্য বিভিন্ন দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরবরাহের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে এই এনসিএমইসির সাথে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের অপরাধ তথ্য বিভাগ (সিআইডি)।

বিশেষ পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল মাসুদ জানান, সংস্থাটির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এর মধ্যেই বেশ কয়েকটি অভিযান চালানো হয়েছে।

বরিশালের শিশু নিপীড়নের ওই ঘটনাটি ঘটেছে প্রায় দেড় বছর আগে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই নিপীড়ক তরুণকে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে ১২ জানুয়ারি গ্রেফতার করেছে সিআইডি। তিনি সেখানে শ্রমিকের কাজ করতেন। বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তিনি শিশুটিকে নিপীড়ন করেছিলেন। এ ঘটনার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ওই তরুণ। কিন্তু ঘটনার শিকার শিশুর পরিবার মামলা করতে রাজি হয়নি। ফলে সিআইডির এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামলা করেছেন।

বিশেষ পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল মাসুদ বলছেন, ‘আমরা তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়ে শিশু বা ছেলে শিশু নিপীড়নের ঘটনাগুলো ঘটছে নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে। ফলে আমরা গ্রেফতার করার পরেও অনেক সময় পরিবারগুলো মামলা করতে চায় না।’

তিনি জানান, গুগল বা ফেসবুকের মাধ্যমে পাওয়া আরো বেশ কিছু তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। সেগুলো নিয়েও আরো কিছু অভিযানের প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

সূত্র : বিবিসি

সার্চ/অনুসন্ধান করুন