সোমবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

জগদ্ধাত্রী প্রতিমা ভাসানের দ্বিতীয় দিনে তাল কাটল, বিপুল জনসমাগম

২৬-নভে-২০২০ | jonmobhumi | 454 views

Spread the love

জগদ্ধাত্রী পুজোয় সামাজিক দূরত্ববিধি মানা হলেও বাঁধ ভাঙল ভাসানে। বুধবার ভাসানের দ্বিতীয় দিনে চন্দননগরে উপচে পড়ল ভিড়। পুলিস, প্রশাসন, পুজো উদ্যোক্তাদের হাজারো প্রয়াস সত্ত্বেও বছরের শেষ উৎসবের রেশটুকু গায়ে মেখে নেওয়ার বাসনাকে রুখে দেওয়া যায়নি। দফায় দফায় জনস্রোত আছড়ে পড়েছে স্ট্র্যান্ড রোডের বিসর্জনস্থলে। কার্যত দূরত্ববিধিকে শিকেয়ে তুলে। কখনও বিপুল জটলা দেখা গিয়েছে, কখনও বা ভাসানের আবির খেলাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেমে পড়েছে আম জনতা, যা করোনা আবহে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ভাসানের প্রথম দিন অর্থাৎ মঙ্গলবারও জনতা সংযত ছিল। ভাসান দেখার আগ্রহ থাকলেও উপচে পড়া ভিড় ছিল না। ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গিয়েছে বুধবার।
পুলিসকর্তারা জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু সময় ভিড় হলেও তা সামাল দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিসর্জনের শেষদিন হওয়ায় বিরাট বাহিনী নামানো হয়েছিল। সামাজিক দূরত্ববিধি রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু সময়ে তা কড়াকড়ি কম হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু পুলিস তৎপরতার অভাব ছিল না। জগদ্ধাত্রী পুজো উদ্যোক্তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ সাউ বলেন, পুজোর মধ্যে যাবতীয় বিধি মানা হয়েছে। বিসর্জনেও সরকারি বিধি উদ্যোক্তারা মেনেছেন। এমনকী, দূষণের কথা মাথায় রেখে প্রতিমার ফুলও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আম জনতার উচ্ছ্বাসে রাশ টানা সবসময় হয়তো সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবারের থেকে বেশি ভিড় হলেও সামাজিক দূরত্ববিধি মানাই হয়নি, এমন পরিস্থিতিও অবশ্য হয়নি। তবে বছরের শেষ উৎসব। মানুষ হয়তো একটু বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিল। এবারের পুজোই আম জনতা সচেতনতার যে স্বাক্ষর রেখেছে তা অভূতপূর্ব।
এবারে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে আগ্রহ থাকলেও উদ্দীপনার অভাব শুরু থেকেই দেখা গিয়েছিল। একেই পুজোর জৌলুস ছিল কম। তার উপরে করোনা নিয়ে উদ্বেগে বাঁধনাহারা ভিড়ের চিত্র উধাও ছিল। রাস্তাঘাটেও উৎসাহী জনতার অভাব ভালোই টের পাওয়া গিয়েছে। মণ্ডপকে কেন্দ্র করে জটলা থাকলেও পথেঘাটে থিকথিকে ভিড় ছিল না। ফলে সামাজিক দূরত্ববিধি অনেকখানিই পালিত হয়েছে। বিসর্জনে শোভাযাত্রায় এবার নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে সেখানেও ভিড় হবে না এমনটাই ভাবা হয়েছিল। মঙ্গলবার বিসর্জনের প্রথমদিন সেই পূর্বাভাস মিলেও গিয়েছিল। কিন্তু বাঁধ ভাঙল বুধবার। 
বুধবার সকাল থেকেই চন্দননগরে বিসর্জনের তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছিল। তখনও তেমন ভিড় ছিল না। কেবল নির্ধারিত সংখ্যক পুজো উদ্যেক্তাদেরই পথে দেখা গিয়েছে। কিন্তু বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আচমকা বিসর্জন স্থলের আশেপাশে ভিড় জমতে শুরু করে। মধ্য দুপুরে কার্যত উপচে পড়া ভিড় দেখা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বারেবারে পুলিসকে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যেতে হয়েছে। তাতে কিছুক্ষণের জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ফের জনতার ঢল নেমেছে। মাস্ক ছিল সিংহভাগ মানুষের কাছে। কিন্তু উৎসব মরশুমের শেষ মুহূর্তকে প্রাণভরে উপভোগের আগ্রহে বারবার দূরত্ববিধি লঙ্ঘন করেছে আম জনতা। 

সার্চ/অনুসন্ধান করুন