সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

জাতির সামনে কঠিন বিপদ আসছে: ডা. জাফরুল্লাহ

২৮-ডিসে-২০২০ | jonmobhumi | 366 views

Spread the love

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, সাংবাদিকরা নির্ভয়। সাংবাদিকরাই করোনাকালে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্ভীক সচেতন সংবাদ মাধ্যম ছাড়া কখনোই দরিদ্রতা নিরসন হবে না। সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। জাতির সামনে কঠিন বিপদ আসছে।

ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে শীতকালে করোনা প্রতিরোধ ও করণীয় এবং শীতবস্ত্র বিতরণকালে তিনি একথা বলেন। এসময় তিনি গরীবদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আজকের সাধারণ মানুষ যেমন পর্যুদস্ত। সরকার উপলব্ধি করে না সত্যটাকে কাছে আনলে সরকারের পরিকল্পনা অনেক সহজ হতো। সরকার তা না করে, যে সত্যটা তুলে ধরতে চাইবে, তার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। এই কণ্ঠরোধ করাটাই একদিন ওই রাজনীতিবিদকে কারাগারে নিয়ে যাবে। আমাদের জাতির সামনে কঠিন বিপদ আসছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সুবিবেচনা এবং সাহসের ক্ষেত্রে মোকাবিলা না করলে, জনসাধারণকে সম্পৃক্ত না করলে, এ সমস্যার সুরাহা হবে না।
করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভ্যাকসিন আসলে কে কয়টা পাবেন, সেটা আপনারা দেখেছেন। আমি মনে করি, এ কাজ অনেক সহজ হতো, সরকার যদি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এ কাজে সম্পৃক্ত করতো।

আপনারা জানেন অক্সফোর্ডে পেনিসিলিন আবিষ্কৃত হয়েছিল। কিন্তু তারা কখনোই এটাকে প্যাটেন্ট করেনি। তারা মনে করেছিল জনসাধারণের জন্য পেনিসিলিন উন্মুক্ত থাকবে। পেনিসিলিন যে পাত্রে আবিষ্কার করা হয়েছিল, তার একটি পাত্র তারা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে দান করেছিল। প্রতীকী অর্থে তারা বলতে চেয়েছিল গণস্বাস্থ্যও যেন এসব কাজে সম্পৃক্ত থাকে।

তিনি আরও বলেন, আমি নিশ্চিত ড. ইউনূস এবং অন্যান্য নোবেল লরিয়েটরা যদি অক্সফোর্ডকে বলতো, তোমরা অতীতের মতো সহযোগিতা করো আমরা আমাদের দেশেই করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করি। দেশীয় গ্লোবের করোনার ভ্যাকসিন এগিয়ে রয়েছে। আমরাও ইচ্ছা করলে ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারি। তাহলে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন তৈরি হতো। দেশের প্রতিটা লোক ভ্যাকসিন পেত।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এন্টিবডি কিট তৈরির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরাই বিশ্বের প্রথম মার্চ মাসে এন্টিবডি কিট আবিষ্কার করেছিলাম। শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে জড়িয়ে ধরে বলতো, জাফরুল্লাহ জবর কাজ করেছো। কিন্তু সরকার প্রতিটা পদে পদে আমাদের কাটা বিছিয়েছেন। এখনও আমরা এন্টিবডি কিটের অনুমোদন পাইনি। এরপর অনেক দেশ এন্টিবডি কিট উৎপাদন করেছে। আমাদের কিটের অনুমোদন দিলে দেশ আর্থিকভাবে লাভবান হতো। এন্টিবডি কিট আবিষ্কার করতে আমাদের ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ১০ কোটি টাকা দিয়ে আমরা অনেক বেশি গরিব মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারতাম।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল এন্টিজেন কিট আবিষ্কার করলো। সরকার আমাদের কন্ডিশন দিল এ কিট আমেরিকা থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে হবে। এতে আরও তিন কোটি টাকার প্রয়োজন। আজকে যদি এমন নিয়ম থাকত তাহলে বাংলাদেশে ওষুধ নীতি হতো না। বাংলাদেশ পৃথিবীর প্রথম শ্রেণির ওষুধ উৎপাদনকারী দেশ হতে পারত না।

অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা করেন গণস্বাস্থের কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মঞ্জুর কাদির আহমেদ ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। আলোচনাসভা পরিচালনা করেন গণস্বাস্থ্যের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।

সূত্র: আরটিভি

সার্চ/অনুসন্ধান করুন