সোমবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তিন সপ্তাহেও ট্রায়ালের অনুমতি পায়নি গ্লোব এর ‘বঙ্গভ্যাক্স’

০৪-ফেব্রু-২০২১ | jonmobhumi | 364 views

Spread the love

বঙ্গভ্যাক্সের করোনা ভ্যাকসিন ভলান্টিয়ারদের মাঝে ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলে (বিএমআরসি) অনুমোদন চাওয়া হয়েছে জানিয়ে বঙ্গভ্যাক্স টিকা আবিষ্কারক টিমের প্রধান কাঁকন নাগ বৃহস্পতিবার বলেছেন, তিন থেকে চার দিনে অনুমোদন হওয়ার কথা থাকলেও গত তিন সপ্তাহেও তা অনুমোদন হয়নি।

তিনি বলেন, ‘এখন যেটুকু দরকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের শুরু হবে তার জন্য ভলান্টিয়ার আছেন, এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করলে ভলান্টিয়ারদের ম্যানেজম্যান্ট কি রকম হবে, এজন্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের এথিক্যাল রিভিউ কমিটির কাছ থেকে একটি পার্মিশন দরকার। এটি মডার্নার ক্ষেত্রে মাত্র চারদিন লেগেছিল, আমাদের এখানে কিন্তু তিন সপ্তাহ হতে চলল। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো রেসপন্স জানি না কখন আপডেট বা অনুমোদন পাব। এটা পাওয়ার পরপরই আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করতে পারব।

সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রীর সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিন সপ্তাহ বা আরো বেশি সময় কেন লাগছে এমন প্রশ্নের জবাবে এই বিজ্ঞানী বলেন, ‘এটি যাদের কাছে আটকে আছে তাদের কাছে জিজ্ঞেস করবেন, আমাদের কাছেতো না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছুই জানাচ্ছে না। আমাদের এখান থেকে আটকে নেই। আপনাদের ওখানেই যাওয়ার কথা। এখানে অনেক সাংবাদিক আছেন, যারা ওই সময়, ওই দিনটার কথা মনে করতে পারেন…আমরা জমা দেয়ার সময়ই কিন্তু অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছিলাম।’

কাঁকন নাগ বলেন, ‘এই ভ্যাকসিনের দুটো বৈশিষ্ট্যের কথা আমরা বলব, এটি খুব সম্ভবত সিঙ্গেল ডোজ ভ্যাকসিন হতে যাচ্ছে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ ভ্যাকসিন হবে। এটা আমরা বলছি ডাটা সাপেক্ষে। আমরা যে ট্রায়ালগুলো করেছি সেটার সাপেক্ষেই এই কথাগুলো বলছি। আমরা আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে, এই মুজিববর্ষেই ভ্যাকসিন দেশবাসীর কাছে নিয়ে যেতে পারব।

তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিনটি সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি। এটা আমাদের জন্য গৌরবের বিষয় যে এই প্রথম আমরা মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে মৌলিক ডিজাইনের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি, এটি কোনো কপি ড্রাগ নয়। এটি পুরো দেশবাসীর গর্বের ব্যাপার।’

কাঁকন বলেন, আজকে প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চলল, আমরা বিএমআরসিতে জমা দিয়েছি এথিক্যাল ক্লিয়ারেন্সের জন্য। এর আগে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে উচ্চ পর্যায়ের টিম গঠন করেছিলেন সাইন্টিফিক রিভিউ কমিটি, উনারা একাধিকবার আমাদের ডাটা এনালিটিক্স করেছেন, অডিট করেছেন…করে উনারা সবকিছু সন্তোষজনক পাওয়া সাপেক্ষে এই ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য, উৎপাদন করার জন্য আমাদেরকে জিএমপি লাইসেন্স দিয়েছেন। তার মানে হচ্ছে টেকনোলজিক্যালি ও সাইন্টিফিক্যালি এটা কার্যকরী এবং নিরাপদ, এইটুকু প্রমাণ আমরা পেয়েছি, সেই স্বীকৃতি পেয়ে গেছি সরকারের কাছ থেকে।

এ সময় বঙ্গভ্যাক্সের অপর বিজ্ঞানী নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) ভারতের বায়োকোন থেকে একজন সিনিয়র ডিরেক্টর আমাদের ফোন করেছেন যে, আমরা বঙ্গভ্যাক্স নিতে চাই। আমরা পাবলিকেশনের জন্য জমা দিয়েছি, সেগুলো ওনারা দেখেছেন, পড়েছেন। বলেছেন, তোমরা এত সূক্ষ্মভাবে ডাটা কাজ করিয়েছো, আমরা বিশ্বাস করতে বাধ্য। বঙ্গভ্যাক্স পৃথিবীতে সুপরিচিতি পাবে। বাংলাদেশ যে এত এগিয়ে গিয়েছে, নিকটবর্তী দেশ হিসেবে আমরা গর্ববোধ করি।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ, তথ্যসচিব খাজা মিয়া, সাবেক মুখ্যসচিব ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আবদুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : ইউএনবি

সার্চ/অনুসন্ধান করুন