সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

নিউইয়র্কে অস্তিত্বহীন রেডিও’র পাতানো পুরুস্কার নিলেন ৫ সাংবাদিক

২৮-ডিসে-২০২০ | jonmobhumi | 412 views

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অস্তিত্বহীন ‘বিসমিল্লাহ রেডিও’র (এফএম ৭৮৬) পাতানো পুরুস্কার নিয়ে সমালোচিত হলেন পাঁচ সাংবাদিক। এ নিয়ে প্রবাসী গণমাধ্যমকর্মিদের মাঝে চলছে নানা প্রতিক্রিয়া। ইউএস প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকশন অ্যাওয়ার্ড নামে বাহারি এ পুরস্কার রেডিও ষ্টেশনের নামে নিজেরাই নিজেদের পুরুস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উক্ত রেডিও’র স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ‘ইসলামিক টিভি’ নামে একটি চ্যানেল থাকলেও তা বাদ দিয়ে রেডিও’র নামে পরিকল্পিত এ পুরুস্কার প্রদানে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, চলতি বছরের মার্কিন নির্বাচন ২০২০ নিয়ে গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনী খবর সংগ্রহ ও পরিবেশন নিয়ে নিউ ইয়র্কের অস্তিত্বহীন বিসমিল্লাহ রেডিও’র (এফএম ৭৮৬) পাঁচ সাংবাদিককে ইউএস প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকশন অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরুস্কারপ্রাপ্তরা হলেন—নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার আবাসিক সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী, সময় টিভির বিশেষ প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান সাকী, একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি শামীম আল আমিন এবং আওয়াজ বিডির সম্পাদক শাহ জে আহমেদ। এদের মধ্যে দু’জন ছাড়া বাকি তিন জনেরই নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে কোনা ভূমিকা ছিল না বলে জানা গেছে। অখ্যাত ও অস্তিত্বহীন এ রেডিও ষ্টেশন কর্তৃক সাংবাদিকদের প্রদত্ত পুরুস্কার নিয়ে নিউইয়র্কের বাংলা গণমাধ্যম কর্মিদের মাঝে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একই সাথে অস্তিত্বহীন ‘বিসমিল্লাহ রেডিও’র ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার ও ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার ফরিদ হোসেন। গত ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ পুরুস্কার ঘোষনা করা হয়।
দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে নিউইয়র্কে সাংবাদিকতার সাথে জড়িত এমন একজন সিনিয়র সাংবাদিক নাম প্রকাশ নয়া করার শর্তে বলেন, পুরুস্কারদাতা ও পুরুস্কারের ধরণ দেখে মনে হচ্ছে এরা দীর্ঘদিন ধরে পুরুস্কারের জন্য ক্ষুধার্ত ছিলো। যে রেডিও’র নামে পুরুস্কার প্রদান করা হয়েছে নিউইয়র্কে এ ধরেনের কোন রেডিও স্টেশনের অস্তিত্ব নেই। আমি দুই যুগ ধরে সাংবাদিকতা করছি এ রেডিও’র নাম কখনো শুনিনি। ইউএস প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকশন অ্যাওয়ার্ড- এ নামে পুরুস্কার দেওয়ার স্পর্ধা এ রেডিওকে দিয়েছে। এ নামে পুরুস্কার দেবেন আমেরিকান মিডিয়া কিংবা সংস্থা অথবা মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু ‘ইসলামিক টিভি’ পরিচালনাকারী এক কথিত মাওলানা তার টিভি’র নাম ব্যবহার না করে কেন রেডিও এফএম ৭৮৬ নামে তিনি পুরুস্কার দিলেন? শুধু ইসলামিক শব্দটি যুক্ত থাকায় তিনি তার টিভি’র নাম ব্যবহার করেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ঢাকার একটি পত্রিকার সাংবাদিক বলেন, যিনি এ পুরুস্কার দিয়েছেন তাকে আমি খুব ভালোভাবেই চিনি। তিনি হজ্ব কাফেলা নিয়ে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের যারা হজ্বে যেতে ইচ্ছুক তাদের জন্য সব কিছুই বন্দোবস্ত করে দেন। তিনি একটি ইসলামিক টিভি পরিচালনা করছেন। কিন্তু হঠাৎ করে তার রেডিও’র কথা শুনে হতবাক হয়েছি। যদি পুরুস্কার দিতেই হয় তাহলে তিনি তার টিভির নাম ব্যবহার করতে পারতেন, তাহলে বিষয়টা আরও গুরুত্ব পেতো। শুধুমাত্র ইসলামিক শব্দটির জন্য তিনি এটি বর্জন করেছেন বলে মনে হচ্ছে। তাছাড়া তার ‘এফএম ৭৮৬’ রেডিও’র নামের অন্তরালেও ‘বিসমিল্লাহ’ শব্দটি লুকিয়ে আছে।
নিউইয়র্ক শহরের বাইরে বাস করেন এমন একজন সাংবাদিক জানান, নিউ ইয়র্কের পাঁচ সাংবাদিকের পুরুস্কারের খবরটি দেখে তিনি নয়া হেসে পারেননি কারন ইসলামিক টিভি’র ও রেডিও এফএম ৭৮৬ মালিক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সাথে পুরুস্কারপ্রাপ্ত একজন সাংবাদিকের দেশের বাড়ি একই এলাকায়। তারা দু’জন মিলেই নিউইয়র্কে ইসলামিক টিভি শুরু করেছিলেন এবং এখনো সম্পৃক্ত রয়েছেন। এতেই প্রমাণ হয়ে যে, এই সাজানো পুরুস্কারের আয়োজনটি পূর্ব পরিকল্পিত। এছাড়া মার্কিন নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে দু’জন ব্যতীত অন্যদের কোন ভূমিকা ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন এ ধরনের অস্তিত্বহীন ও নাম সর্বস্ব ‘বিসমিল্লাহ রেডিও’র (এফএম ৭৮৬) খুঁটিনাটি না জেনে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার ও ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার ফরিদ হোসেনের অংশ গ্রহন করা মোটেই ঠিক হয়নি। এতে তাদের সম্মান বাড়েনি বরং তারা অনেকটাই বিতর্কিত হয়েছেন।
নিউইয়র্ক প্রবাসী একজন সাংবাদিক তার নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, নিউইয়র্কে মিলাদ পড়ানো হুজুরও পদক দিচ্ছে! আবার কতিপয় মিডিয়া কর্মী পদক নিয়ে এমন কথা লিখছেন, ভাবছি যথাযথ মূল্যায়নে পদক পেলে তারা কী করবেন? বাহারী নামের পদক। মনে হবে ইউএস সরকার দিচ্ছে। পদকদাতা প্রতিষ্ঠানের নাম কেউ শুনছে বলেও মনে হয়নি। আর যিনি পদক দিয়ে ঢোল পেটালেন-তিনি বাংলাদেশের একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ঐ চক্রের মূল হোতা কয়েকবছর ধরে জেল খাটছেন। তিনি পালিয়ে এসে রক্ষা পেয়েছেন। জ্যামাইকা এলাকার একটি মসজিদের খতিবের প্রথম পক্ষের মেয়ের জামাই তিনি।

সূত্রঃ বাংলা প্রেস

সার্চ/অনুসন্ধান করুন