সোমবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

নিউইয়র্ক সুপ্রীম কোর্টে সময় টিভি’র বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা

২৫-ডিসে-২০২০ | jonmobhumi | 384 views

Spread the love

জন্মভূমি ডেস্ক, নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সুপ্রীম কোর্টে বাংলাদেশের
সময় টেলিভিশনের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের হয়েছে। সময় টেলিভিশন
কর্তৃপক্ষের চুক্তি ভঙ্গ এবং প্রতারণার অভিযোগ এনে গত ৩ নভেম্বর ২০২০ এ
মামলাটি দায়ের করেন সময় টিভির যুক্তরাষ্ট্র ব্যুরো প্রধান নিউইয়র্ক প্রবাসী
সাংবাদিক একেএম শিহাবউদ্দীন কিসলু। সময় টিভি’র সাথে ‘জয়েন্ট ভেনচার’ বা যৌথ
ব্যবসা চুক্তিকারী ‘সময় মিডিয়া ইনক’এর প্রেসিডেন্ট এবং সময় টিভির যুক্তরাষ্ট্র
ব্যুরো প্রধান নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক একেএম শিহাবউদ্দীন কিসলুর দায়ের করা
উক্ত মামলায় বকেয়া পাওনা প্রদানেরও দাবি করেন।
বাংলাদেশের সময় টিভি, সময় টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইও আহমেদ জুবায়ের
এবং যুক্তরাষ্ট্রে সময় টিভি’র প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান সাকীর বিরুদ্ধে সুপ্রীম
কোর্ট অব দি স্টেট অব নিউইয়র্কে ‘কাউন্ট ফোর’ (অপরাধী দল এবং সংস্থা)- এ মামলা
দায়ের হয়েছে। মামলার ইনডেক্স নম্বর -৭২০৭৬২/২০২০।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বাংলাদেশের সময় টিভির পক্ষ থেকে ২০১৩ সালের ৪
ডিসেম্বর প্রথমে সাংবাদিক একেএম শিহাবউদ্দীন কিসলুকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি
হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর তাকে যুক্তরাষ্ট্রস্থ
‘ব্যুরো চীফ’ হিসেবে পদোন্নতির নিয়োগ দেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়
টিভি সাংবাদিক শিহাউদ্দীন কিসলুর কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে শিহাবউদ্দীন কিসলুর
মালিকানাধীন সময় মিডিয়া ইনক-এর সাথে ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর ‘জয়েন্ট ভেনচার’ বা যৌথ ব্যবসা চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশের সময় মিডিয়া লিমিটেড। পার্টনারশীপ
ব্যবসার এই চুক্তির কোন মেয়াদ উত্তীর্নকাল ছিলনা। চুক্তি অনুযায়ী একেএম
শিহাবউদ্দীন কিসলুর প্রথম বছরের মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয় নূণ্যতম ৩ হাজার
ডলার, সাথে কর্মচারীদের খরচ ২ হাজার ৫০০ ডলার এবং অফিস ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় সকল আনুসাঙ্গিক খরচ।
এছাড়া শিহাবউদ্দীন কিসলুকে সময় টেলিভিশন বাংলাদেশের নির্বাহী কর্মকর্তাদের
সমপরিমান বোনাস সুবিধাদি এবং শতকরা ৫% ভাগ লভ্যাংশ দেয়ার শর্তে চুক্তিবদ্ধ হয়
বাংলাদেশের সময় মিডিয়া লিমিটেড।
চুক্তির কিছুদিনের মধ্যেই সময় টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইও আহমেদ
জুবায়ের যুক্তরাষ্ট্রে মার্কেটিং অফিসার হিসাবে আকতার হোসেন বাবুর জন্য এল
ওয়ান ভিসার আবেদন করতে বলেন। এই ঘটনার কয়েক মাস আগে আকতার হোসেন বাবু এবং তার স্ত্রী মাহমুদা আলমকে কানাডা সীমান্তে ‘অসত্য তথ্য’ উপস্থাপনের কারণে
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে প্রবেশানুমতি না দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছিল সমীন্তে
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশনের বিচারিক কর্মকর্তা। আকতার হোসেন বাবুর জন্য এল
ওয়ান ভিসার আবেদনে উল্লেখ করা হয় আক্তার হোসেন বাবুর বার্ষিক বেতন ৭৫ হাজার
ডলার (৫ মে ২০১৬ থেকে ১৪ এপ্রিল ২০১৮ সাল পর্যন্ত)। ‘অসত্য তথ্য’ দিয়ে আকতার
হোসেন বাবুর এল ওয়ান ভিসার আবেদন এবং পরবর্তীতে এল ওয়ান আবেদনে যুক্তরাষ্ট্র
সরকারের শর্তাবলী পূরণ না করা সত্বেও ‘অসত্য তথ্যে’ আকতার হোসেন বাবুর জন্য
পূনরায় এল ওয়ান ভিসা আবেদনে অস্বীকৃতি জানায় সাংবাদিক শিহাবউদ্দীন কিসলু।
প্রচন্ড চাপের মুখেও এই অপরাধজনক কাজটি করতে রাজি হননি শিহাবউদ্দীন কিসলু।
তিনি তার আইনজীবীর পরামর্শে আক্তার হোসেন বাবুর জন্য এল ওয়ান  আবেদন
প্রত্যাহার করে নেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন বিভাগে যে কোন ধরনের জালিয়াতির
কাজগপত্র জমা দিতে সম্পূর্ণ অপারগতা প্রকাশ করেন শিহাবউদ্দীন কিসলু। এরপরই
শিহাবউদ্দীন কিসলুর সাথে সময় টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইওর সাথে
সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর সূত্র ধরেই চুক্তি ভঙ্গ করে শিহাবউদ্দীন কিসলুকে ২০১৮
সালের ১ জানুয়ারি একতরফা ভাবে চিঠি দিয়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার কথা জানানো
হয়।
‘জয়েন্ট ভেনচার’ চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে এবং শিহাবউদ্দীন কিসলুর সকল ক্ষতিপূরণ
ও বকেয়া পাওনা আদায়ে আদালতে শিহাউদ্দীন কিসলুর পক্ষে তার আইনজীবি ‘কাউন্ট ফোর’  মামলা দায়ের করেন। আইনজীবি আর্থার মরিসন অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সময় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের প্রতারণামূলক কাজে সম্মত না হওয়ায় এবং প্রতারণার মাধ্যমে শিহাবউদ্দীন কিসলুর ন্যায্য পাওনা না দেয়ার জন্যই বাংলাদেশের সময় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করে এ ধরনের পদক্ষেপ নেন।
মামলার নথিতে আইনজীবীর মাধ্যমে শিহাবউদ্দীন কিসলু আদালতে ক্ষতিপূরণ (বকেয়া)
পাওনা ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার এর সাথে বাৎসরিক ১ লাখ ডলার এবং চুক্তি মোতাবেক
প্রাপ্য বোনাস ও লভ্যাংশ প্রাপ্তি’র মামলা দায়ের করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটিতে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, মামলা’র
অভিযোগের বাইরেও সময় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের কিছু অপরাধ কর্মকান্ডে শিহাবউদ্দীন
কিসলুর অস্বীকৃতি এবং বিশেষ করে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে সরকার
পরিবর্তনের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে সময় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের কু-মতলবে
শিহাবউদ্দীন কিসলুকে সম্পৃক্ত করতে না পারার কারণেই তিনি ঘটনার শিকার হয়েছেন
বলে অনেকেই ধারনা করছেন।

সার্চ/অনুসন্ধান করুন