বুধবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

নিউ ইয়র্কে জিয়াকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ স্বীকৃতিদাতা রাজ্য সিনেটর গ্রেপ্তার

১৪-জানু-২০২১ | jonmobhumi | 15 views

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক: জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ স্বীকৃতিদাতা নিউ ইয়র্কের সেই রাজ্য সিনেটর লুইস সেপুলভেদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।তিনি ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিউ ইয়র্ক ষ্টেট সিনেটে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ উল্লেখ করে রেজুলেশন পাশ করিয়েছিলেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়াধীন স্ত্রীর দম বন্ধের চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেন। নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসের প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে তিনি ‘লুইস ভাই’ নামে পরিচিত। গত শনিবার নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কস এয়াকায় তার বাড়িতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় বিতাড়িত স্ত্রীকে দম বন্ধ করার চেষ্টা চালান তিনি। স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এনওয়াইপিডি-র গোয়েন্দা বিভাগের একটি সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
এনওয়াইপিডি-র গোয়েন্দা বিভাগের মুখপাত্র সোফিয়া ম্যাসন জানিয়েছেন, শনিবার তার ব্রঙ্কস বাড়িতে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় রাজ্য সিনেটর লুইস সেপুলভেদা (৫৬) বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় বিতাড়িত স্ত্রীকে শ্বাস নিতে বাধা দেওয়ায় গুরুতর অপরাধ করেছেন। সেপুলভেদার গ্রেপ্তারের তথ্য তত্ক্ষণিকভাবে সহজলভ্য ছিল না বলে উল্লেখ করেন গোয়েন্দা বিভাগ।
ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটর লুইস সেপুলভেদা ২০১৮ সাল থেকে ব্রঙ্কসের একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। মঙ্গলবার গ্রেপ্তারের পর রাজ্য সিনেটের অপরাধের শিকার, অপরাধ ও সংশোধন কমিটির সভাপতির পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিগিগির অন্যান্য দায়িত্বও ছিনিয়ে নেওয়া হবে।
সেপুলভেদার আইনজীবী অভিযোগটিকে মিথ্যা বলে অভিহিত করে বলেন, এটি “বিবাহবিচ্ছেদের নিষ্পত্তি লাভের জন্য অসন্তুষ্ট পক্ষের একটি গণনামূলক প্রচেষ্টা”।

গত বছর ২ নভেম্বর ফ্লোরিডার অরেঞ্জ কাউন্টিতে সেপুলভেদার স্ত্রী তাদের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। সেখানে তাদের একটি বাড়িও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় সেপুলভেদার স্ত্রীর প্রতিনিধিত্বকারী হিসাবে আদালতের রেকর্ডে তালিকাভুক্ত একজন আইনজীবী একজন সচিবের মাধ্যমে বলেছেন যে তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন না।
ম্যাসন বলেন, একটি ঘরোয়া ঘটনার জন্য শনিবার ভোর ৫ টা ৪৫ মিনিটে সেপুলভেদার ব্রঙ্কসের বাড়ি থেকে পুলিশ ডাকা হয়। সেপুলভেদা এবং তার চল্লিশ বছর বয়স্কা স্ত্রী একে অপরের বিরুদ্ধে লাঞ্ছনার অভিযোগ করেন।
এর আগে ২০১৫ সালে সেপুলভেদা রাজ্য বিধানসভার সদস্য থাকাকালীন তার স্ত্রী তার বিরুদ্ধে সুরক্ষার আদেশ চেয়েছিলেন। সেপুলভেদা সেই সময় বলেছিলেন যে এটি পরে তার স্ত্রীর কাছ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। দুজনেই বলেছিলেন যে এই ঘটনায় তাদের মধ্যে তর্ক ছিল কিন্তু তা কখনই হিংস্র আকার ধারণ করেনি। সেপুলভেদার আইনজীবী, মারভিন রে রাসকিন দাবী করেছেন যে এই আইনপ্রণেতা তার স্ত্রীর হাতে পুনরাবৃত্তি শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। রাসকিন গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন যে সেপুলভেদা প্রায় নয় বছর ধরে অভিযোগ করছেন যে তাদের একটি ছোট বাচ্চা আছে বলে কিছুটা সময় ধরে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাসকিন বলেন।”সমস্ত অভিযোগকে গুরুত্বের সাথে নিতে হবে এবং আইনের পূর্ণ মাত্রায় তদন্ত করতে হবে। উত্থাপিত বিষয়গুলি অবশ্যই দিনের আলো দেখাতে হবে। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সম্পর্কের আসল ইতিহাসটি বোঝা যাবে, যে ঘটনাগুলি নিজেরাই উপস্থাপন করে সেগুলি আরো পরিষ্কার করবে।
আলবানিতে সেপলভেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের দ্রুত প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বাফেলো অঞ্চল থেকে রিপাবলিকান সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা রব অর্ট সেপুলভেদার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান।
রব অর্ট এক বিবৃতিতে বলেন, বিষয়টি আমার কাছে পরিষ্কার করে দেওয়া উচিত। আমরা কারও কাছ থেকে গৃহকর্মী সহিংসতার কোনও ক্রিয়াকলাপ সহ্য করতে পারি না, বিশেষত আমাদের সিনেট চেম্বারের একজন স্থায়ী সদস্যও যে এসব কর্মকান্ডে জড়িত নয়া থাকেন।
ডেমোক্র্যাটিক মেজরিটি লিডার আন্দ্রে স্টুয়ার্ট-কাজিন্স, যিনি সেপুলভেদাকে তার কমিটির ভূমিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি বলেন, ‘আমি এই অভিযোগগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি এবং এই পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করব।’

উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক রাজ্য সিনেটর লুইস সেপুলভেদা ব্রঙ্কসে বসবাসকারী সহস্রাধিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রবাসীদের প্রায় প্রতিটি কর্মকান্ডেই ছিল তার অবাধ অংশগ্রহণ। এজন্য স্থানীয় প্রবাসীরা তাকে আদর করে ‘লুইস ভাই’ বলে ডাকতেন। কেউ এ নামে ডাকলে তিনি বেশি আনন্দিত হতেন।
গত ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর সিনেটর লুইস সেপুলভেদার নেতৃত্বে পাঁচ সিনেটর ও অপর তিন স্টাফসহ একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে যান। এরা হলেন লুইস সেপুলভেদা, জন ল্যু, জেমস স্কুফিস, লিরয় কমরি ও কেভিন এ পার্কার। এদের সবাই ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য। এই পাঁচ সিনেটর নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কমিউনিটিকে বিভিন্ন বিষয়ে এবং বিভিন্নভাবে জোরালো সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।
ওই সময় সিনেটর লুইস সেপুলভেদার বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে প্রবাসে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে কারণ সিনেটর লুইস সেপুলভেদা জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ উল্লেখ করে নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেটে একটি রেজুলেশন পাশ করান, যেখানে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেটে জে-১০৪৮ নম্বরের উক্ত রেজুলেশনটি পাশ হয়।
ওই প্রস্তাবের পরিপূরক আরেকটি প্রস্তাব (রেজ্যুলেশন) পাশ হয় একই বছরের ২৪ মার্চ নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে। সেটির অন্যতম রূপকার ছিলেন তদানীন্তন অ্যাসেমবলিম্যান লুইস সেপুলভেদা। তিনি স্টেট সিনেটর এবং বাংলাদেশ সফরকারী প্রতিনিধি দলে তিনি নেতৃত্ব দেন।

সূত্রঃ বাংলা প্রেস

সার্চ/অনুসন্ধান করুন