মঙ্গলবার, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরীমণির অভিনয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি : নাসির

০৪-জুলা-২০২১ | jonmobhumi | 22 views

Spread the love

যথাযোগ্য ব্যক্তিরা যথেষ্ট গভীর ও সঠিকভাবে তদন্ত করছেন। আমি বিশ্বাস করি, তদন্তে সঠিক বিষয়টি বের হয়ে আসবে। আমি তদন্তের উপর পূর্ণ আস্থা রাখছি। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আমার বলা ঠিক হবে না। সেলিব্রেটি নায়িকার অভিনয়ে আমি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি।

পরীমণির সঙ্গে গত ৯ জুন ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের কাছে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানান ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ। আলোচিত চিত্রনায়িকা পরিমণিকে নিয়ে বোট ক্লাবে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় দেশজুড়ে।তিনি বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নির্বাচিত জিএস ছিলাম। ঢাকার প্রথম বিভাগের ফুটবলার ছিলাম। উত্তরা ক্লাবের তিনবার সভাপতি ছিলাম। একজন ব্যবসায়ী। আমাকে আটক করার পরও কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। 

আইনি ব্যবস্থায় যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে নাসির ইউ মাহমুদ বলেন, আমি রাজনীতি করি, সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে জড়িত। আমি জামিনে আছি। বিষয়টি বিচারাধীন, তাই এই মুহূর্তে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছি না। এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। বোর্ড ক্লাবসহ আমার লিগ্যাল অ্যাডভাইজারের পরামর্শে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে পদক্ষেপের কথা জানান তিনি।

নায়িকা পরীমণির মামলায় ঢাকা বোট ক্লাবের বিনোদন সম্পাদক ও ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদসহ পাঁচ জনকে উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের গ্রেফতারের আগে সাভার থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন পরীমণি। গত ৯ জুন রাতে পরীমণি বোট ক্লাবে গেলে হত্যা ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, পরীমণি তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে ঘটনার বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চান। পরীমণি অভিযোগ করেন, নাসির ওই রাতে তাকে বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করেন। তার মুখের ভেতরে মদের বোতল ঢুকিয়ে দেন। পরীমণি বলেন, ঘটনার পর সবাই শুধু ঘটনা জানতে চেয়েছে। কিন্তু কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। পরীমণির সংবাদ সম্মেলনের পরপরই পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠে।
 
এ প্রসঙ্গে নাসির ইউ মাহমুদ বলেন, বোট ক্লাবের ঘটনার ৫ দিন পর এক ঘণ্টার ব্যবধানে বহু ক্যামেরা নিয়ে পরীমণি ঘটা করে সংবাদ সম্মেলন করেন। প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্পর্শকাতর চিঠি দিলেন। পরীমণি অভিযোগ করলেন, কোনো থানায় তিনি রেসপন্স পাননি! অথচ তিনি বনানী থানায় যখন অভিযোগ করতে যান, তখন তিনি মাতাল অবস্থায় ছিলেন। যা আপনারা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে বিভিন্ন টেলিভিশনে দেখেছেন। থানা থেকে তাকে বলা হলো, আপনি সুস্থ হয়ে আগামীকাল অভিযোগ দায়ের করেন। আপনি আর গেলেন না।

আপনি তো ঘটনার আশপাশের থানা রূপনগর বা সাভার থানায়ও যেতে পারতেন। কেন যাননি? ঘটনার পাঁচ দিনেও কোনো থানায় অভিযোগ কেন জানালেন না? থানা তো বন্ধ ছিলো না। তাহলে পরিমনি কী করে বলল, কোনো থানা তাকে রেসপন্স করেনি?

একটি মানসম্মত ক্লাবে কখনই কোনো অনৈতিক কাজের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযোগ করেছেন, আমি নাকি তাকে হত্যার চেষ্টা করেছি! আমি তো তাকে এ ঘটনার আগে চিনতামই না। পরীমণি নিজেও বলেছে, সে আমাকে আগে চিনতো না। তার সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতাও ছিলো না। তবে তাকে কেন আমি হত্যা করতে যাব?

সেদিন রাতের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি বোট ক্লাবের ডিসিপ্লিনের দায়িত্বে ছিলাম। ৯ জুন রাত সাড়ে ১২টায় পরীমণি কয়েকজনকে নিয়ে আসেন। এসে মদপান করতে থাকেন। এতেও কেউ বাধা দেননি। কিন্তু তিনি নিজ হাত দিয়ে র‌্যাক থেকে তিন লিটারের একটি বোতল নিতে গেলে ক্লাবের স্টাফরা বাধা দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পরীমণি। যা কোনো সভ্য মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়। এই হুইস্কির দাম দেড় লক্ষ টাকা। আর এটা সদস্য ছাড়া বিক্রয়যোগ্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 
এসব নিয়ে পরীমণিকে কর্মচারী বাধা দিলে টেবিলে থাকা গ্লাস, প্লেট ভাঙচুর করেন। বিষয়টি আমাকে জানালে আমি পরীমণিকে এটা নিতে নিষেধ করি। তাকেও প্লেট ও গ্লাস ছুঁড়ে আহত করেন। আমি তাদের ক্লাব থেকে বের হয়ে যেতে বললে পরীমণির সঙ্গে আসা জিমি আমার ঘাড়ে ঘুসি মেরে বসে। তখন ক্লাবের আরেক সদস্য শাহ আলম জিমিকে আটক করে। মারামারি বাঁধে জিমি ও শাহ আলমের মধ্যে। তখন অন্য সিকিউরিটিরা তাদের আলাদা করেন। পরীমণি যাওয়ার সময়ও দুই বোতল মদ নিয়ে যায়। 

তিনি বলেন, পৃথিবীর উন্নত দেশসহ কোনো দেশেই বারে সিসি ক্যামেরা থাকে না। কারণ, সমাজের উচ্চবিত্ত মানুষ যখন এসব ক্লাবে আসে, তখন তারা চায়, এগুলো যাতে প্রকাশিত না হয়। আমি চাই সত্য উন্মোচিত হোক। আইনের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। তারা অবশ্যই সত্য বের করবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুন পরীমণির ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার মামলায় জামিন পান নাসির ইউ মাহমুদ। পর দিন মাদক মামলায়ও জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হন এই ব্যবসায়ী।

সার্চ/অনুসন্ধান করুন