রবিবার, ২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

মহেশখালীতে ওসি প্রদীপসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ

১৩-আগ-২০২০ | jonmobhumi | 47 views

Spread the love

কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নে কথিত বন্দুকযুদ্ধে লবণচাষি আব্দুস সাত্তার নিহতের ঘটনায় সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তিন বছর আগে ওই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে করা হত্যা মামলাটি তদন্ত করার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আজ বৃহস্পতিবার আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী হামিদা বেগমের দায়ের করা মামলাটি শুনানি শেষে মহেশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্বাস উদ্দিন এই আদেশ দেন। এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত লবণচাষি আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী হামিদা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই মামলায় প্রদীপ কুমার দাশ ছাড়াও পুলিশের আরও পাঁচ সদস্যকে আসামি করা হয়। তাঁরা হলেন মহেশখালী থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশীদ ও ইমাম হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনিরুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম ও আজিম উদ্দিন।

প্রদীপ কুমার দাশসহ পুলিশের ছয় সদস্যের পাশাপাশি স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান ফেরদৌস চৌধুরীসহ তাঁর বাহিনীর ২৩ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় বাহিনীর প্রধান ফেরদৌস চৌধুরীকে প্রধান আসামি করা হয়। প্রদীপ কুমার দাশ ২৪ নম্বর আসামি।

জানতে চাইলে মহেশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউস আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, হামিদার মামলাটি আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। আর পুলিশের দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করার জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেন আদালত। ওসির দাবি, আব্দুস সাত্তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত অস্ত্র ব্যবসায়ী। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার আগে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্রসহ তিনটি মামলা ছিল। পরে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক তিনটি মামলা করে। অস্ত্র ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি হত্যা মামলাটি তদন্তাধীন আছে। মামলাটি এখন তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে পাঠানো হবে।

তবে আদালতে দায়ের করা মামলায় হামিদা বেগম দাবি করেন, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে তাঁর স্বামী লবণচাষি আব্দুস সাত্তারকে পুলিশসহ অন্য আসামিরা মারধর করে কালারমার ছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ কথিত ক্রসফায়ারের নাটক সাজায়। তিনি এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে মহেশখালী থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ থানায় মামলা নেননি। তখন তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। হামিদা বেগমের করা রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ৭ জুন আদেশ দেন। এতে বলা হয়, হামিদা বেগম এজাহার দাখিল করলে মহেশখালী থানার ওসিকে তা তাৎক্ষণিক গ্রহণ করতে হবে। এই আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। তবে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র সচিবের (জননিরাপত্তা বিভাগ) পক্ষে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। এই আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ১৩ মে আপিল বিভাগ আদেশ দেন। এতে রুল ইস্যু না করে এজাহার গ্রহণ করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বাতিল করা হয়। একইসঙ্গে ওই রিট মোশন (নতুন মামলা) হিসেবে নতুন করে শুনানি করতে বলা হয়।

সার্চ/অনুসন্ধান করুন