শনিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

মোদি সরকার কৃষক দরদী, নতুন কৃষি বিলে সবথেকে বেশি উপকৃত হবেন বাংলার কৃষকেরা’

১৮-সেপ্টে-২০২০ | jonmobhumi | 419 views

Spread the love

মোদি সরকার কৃষক দরদী। নতুন কৃষি বিলে সবথেকে বেশি উপকৃত হবেন বাংলার কৃষকেরা। কারণ বাংলায় কৃষক এবং বাজারের মধ্যে যে দালাল চক্র আছে তা এবার নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে এবং বাংলার ছোট ছোট কৃষকেরা মুক্তবাজারের নিজেদের জিনিস ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারবেন । এতে উদ্বৃত্ত ফসল পচে নষ্ট হবে না এবং অন্য রাজ্যে বিক্রি করে আখেরে লাভ হবে বাংলার কৃষকদেরই।‘ এমনটাই বললেন দিলীপ ঘোষ।

দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ‘আমি যখন দিল্লি আসি বা দীর্ঘদিন সংঘের প্রচারক হিসেবে যখন বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে বেরিয়েছি তখন দেখেছি সেই সমস্ত রাজ্যের কৃষকেরা অনেক বর্ধিষ্ণু এবং অর্থনৈতিকভাবেও যথেষ্ট সফল। আমি একজন কৃষক পরিবারের ছেলে। তাই কৃষকদের জীবন যাপনের জন্য নিত্যদিনের লড়াইটা আমি ভালোই বুঝি। সূর্যের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে যে কৃষক মাঠে চলে যান তারপর সারাদিন রোদে পুড়ে জলে ভিজে যে কৃষক সোনার ফসল ফলান। শেষ পর্যন্ত এই দালালচক্রের চক্রের খপ্পরে পড়ে সামান্য মূল্যের ফসল বিক্রি করে সেই কৃষক ই রয়ে যান অন্ধকার দারিদ্রতাকে সাথী করে।

কৃষকদের এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্যই মোদি সরকার এই নতুন কৃষি বিল এনেছে ।আমাদের পশ্চিমবঙ্গের  মাটি অত্যন্ত উর্বর। ধান গম থেকে শুরু করে আম আনারস টমেটো প্রমিতি নানা জাতের ফসল উৎপাদিত হয় আমাদের বাংলায়। কিন্তু প্রতিবছরই বেশ কিছু ফসল বিক্রি না হওয়ার জন্য পচিয়ে ফেলতে হয়।

বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় আমি নিজে রাস্তার ধারে ঢিবি হয়ে পড়ে থাকা আনারস টমেটো আম পড়ে পড়ে পড়তে দেখেছি। এর কারণ হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে যে পরিমাণ ফসলের দরকার অনেক সময় তার থেকে অনেক বেশি পরিমাণ ফসল উদ্বৃত্ত হয় ।বাজার না পাওয়ার কারণে চাষীরা বাধ্য হন ফসল নষ্ট করে ফেলতে। কিন্তু যদি মুক্তবাজার হয় তাহলে এই ফসলই অন্য রাজ্যে বিক্রি করতে পারবেন চাষীরা। মোদি সরকারের ডিজিটাল ভারতের কল্যাণে এখন পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে গঞ্জে প্রায় সবার হাতেই স্মার্ট ফোন আছে। যদি চাষীরা উন্মুক্ত বাজারের মাধ্যমে নিজেদের ফসল দালালদের হাতে না দিয়ে একটু বেশি লাভ করতে পারে তাতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সমস্যা হবে দালালচক্রের।

আমরা চাই ভারতীয় অর্থনীতির মজবুত স্তম্ভ কৃষকদের এবং কৃষি ব্যবস্থাকে এক দৃড় অর্থনীতির উপর দাঁড় করাতে। এইজন্যই মোদিজী প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার জন্য কিষান সম্মান নিধি যোজনা এর মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার প্রকল্প ঘোষণা করেছেন । আর এই প্রকল্পে দুই হেক্টর পর্যন্ত যাদের জমি আছে তারাই এই অনুদান পাবেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা এক্ষেত্রেও বঞ্চিত ।ভোটের রাজনীতি করার জন্য মমতা সরকার এই অর্থ কৃষকদের পেতে দিচ্ছেন না।

এই যেমন পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে আলুর দাম নিয়ে মারাত্মক অসুবিধা রয়েছে মধ্যবিত্ত বাঙালিরা। কিন্তু একসময় পশ্চিমবঙ্গে এত আলু উৎপাদিত হত যে সেটা বিহার এবং ঝাড়খন্ডে সহ প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিক্রি করে লাভবান হতেন চাষীরা। কিন্ত মমতা ব্যানার্জির সরকার পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে আলুর বিপণন বন্ধ করে দিয়েছেন । এখন কোল্ড স্টোরেজের মালিকেরা অনেক কম দামে চাষিদের থেকে আলু কিনে কোল্ড স্টোরেজে ভরে রাখছে আর বাজারে কৃত্রিমভাবে মারাত্মক চাহিদা তৈরি করে আলুর দাম বাড়িয়ে চলেছে। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই চড়া দামে আলু কিনছেন । এই দামটা পারছনা কিন্তু চাষীরা। তারা কিন্তু অনেক কম দামে ফসল বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। মুনাফার নিয়ে লাভবান হচ্ছে দালাল চক্র। এই সমস্ত বিষয় গুলোকে বন্ধ করার জন্যই মোদি সরকারের নতুন কৃষি বিল।

সার্চ/অনুসন্ধান করুন