সোমবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির দায়ে বাংলাদেশির ১৫ বছরের কারাদণ্ড

০৯-মার্চ-২০২১ | jonmobhumi | 411 views

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার নামে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি ও ব্যথানাশক ওষুধ সরবব্রাহ করে ১৩২ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে এক বাংলাদেশিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে মিশিগানের কেন্দ্রিয় আদালত। দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মাশিয়াত রশিদকে (৪০)।
একই চক্রের সদস্য হিসেবে ১২ ডাক্তারসহ আরও ২১ জনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড হয়েছে বলে মিশিগান ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি সাইমা শফিক মহসিন এবং বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিকলাস এল ম্যাকুয়াইড সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন।
মিশিগান এবং ওহাইও স্টেটভিত্তিক ‘ট্রাই-কাউন্টি ওয়েলনেস গ্রুপ’র সিইও মাশিয়াত রশিদকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রতারণামূলকভাবে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফিরিয়ে দিতে হবে মেডিকেয়ার কোম্পানিকে। আরও সাড়ে ১১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাণিজ্যিক ও আবাসিক রিয়েল এস্টেট রাষ্ট্রের বরাবরে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মিশিগানের ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ডের বাসিন্দা মাশিয়াত রশিদকে গত ৩ মার্চ এই দণ্ড প্রদান করা হয়। ২০১৭ সালে গ্রেফতার হন তিনি। ২০১৮ সালে নিজে থেকেই দোষ স্বীকার করেন মাশিয়াত।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত রশিদ ছিলেন ওই ট্রাই-কাউন্টি ওয়েলনেস গ্রুপের সিইও। এর অধীনে বেশ কিছু ক্লিনিক চালু করা হয়, যারা সত্যিকারের কিছু রোগীর সাথে আদৌ অসুস্থ নন এমন গরিব লোকদের সংগ্রহ করে। ব্যথানাশক ইঞ্জেকশনের আদৌ প্রয়োজন না হলেও অনেক মানুষকে তা প্রদান করা হয়। এভাবে অনেক মানুষকে আসক্ত করা হয় ওষুধ সেবনে। শত শত রোগী চিকিৎসার নামে মোটা অঙ্ক ড্র করা হয় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে।
তদন্তের সময় অনেকে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, ওই ক্লিনিকে বা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে যতটুকু ব্যথা ছিল, পরে ব্যথা চরম আকার ধারণ করে। অর্থাৎ ঘন ঘন ইঞ্জেকশন নিতে হয়েছে তাদেরকে। বেশ কটি ক্লিনিকে প্রতিনিয়ত আর্তচিৎকার শোনা গেছে। রোগীরা কষ্টে কান্নাকাটি করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে উল্লেখ করেছেন, মাশিয়াত রশিদের নেটওয়ার্কের চিকিৎসকরা ৮ বছরে এত বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো অঞ্চলে ঘটেনি।
প্রতারণামূলকভাবে অর্জিত অর্থে ব্যক্তিগত জেট ক্রয় করেন মাশিয়াত। দামি গাড়ি ছাড়াও স্ত্রীর জন্য মূল্যবান স্বর্ণালংকার ক্রয় করেছেন। নিজের জন্য বিশ্বে সবচেয়ে মূল্যবান ঘড়ি, টাই, স্যুট, জুতা ক্রয় করেছেন। মাশিয়াতের চালচলনে বিস্মিত হয়েছিলেন মিশিগান ও ওহাইওতে বসবাসরত প্রবাসীরাও।

বাংলাপ্রেস ডেস্ক

সার্চ/অনুসন্ধান করুন