সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

রিসোর্টে অবরুদ্ধ অবস্থায় যা বলেছেন মামুনুল হক

০৩-এপ্রি-২০২১ | jonmobhumi | 273 views

Spread the love

‘আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, উনি আমার দ্বিতীয় স্ত্রী। আমি অন্যায় কিছু করিনি। আমি শরিয়ত সম্মতভাবে বিবাহ করেছি। আমার শ্বশুর বাড়ি খুলনায়। তিনি আমার বিবাহিতা স্ত্রী। পর্দানশীন মহিলা। তার সাথে আপনারা খারাপ ব্যবহার করেছেন। আমাকে নাজেহাল করেছেন। আমাকে শারীরিকভাবে অপমান করেছেন। আপনাদের দেখে নেব। আপনাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে শনিবার বিকেলে স্থানীয় একদল যুবকের সাথে বাগ্বিতণ্ডার সময় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা বলেন।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এ সময় সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনি, পৌরসভা ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান রবীনসহ স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতারা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।

এ সময় সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তৌহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার সময় অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একজন মামুনুল হককে প্রশ্ন করছেন, …সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন, কী ব্যবস্থা নেবেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনি কে, আপনি দাবড়ায়ে কথা বলেতেছেন কেন?’

রিসোর্টে অবস্থানকালে কিছু লোক তাকে হেনস্থা করেন। এ সময় তার কাছ থেকে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে কালো মাস্ক পরা ও ব্লু রঙের গেঞ্জি গায়ে একজনকে। তখন একজনকে বলতে শোনা যায়, ওনি এমন করেন কেন? আরেকজন বলেন, সাথে নারী আছে। এ সময় মাওলানা মামুনুল হককে নিজের মোবাইল রক্ষার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তখন তিনি বলেন, ‘সাথে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী’।

এ দিকে একজনকে ধারা বর্ণনা দিতে শোনা যায়। তিনি বলেন, মাওলানা মামুনুল হক আমাদের নারায়ণগঞ্জের রিসোর্টে এসে এখানে…পাশ থেকে তখন একজন বলে দেন ‘মহিলা লইয়া ধরা পড়ছে…’। এরপর অশ্লীল ভাষায় একজনকে গালাগাল ও কয়েকজন মিলে শারীরিকভাবে মাওলানা মামুনুল হককে হেনস্থা করতে দেখা যায়। এ সময় ভেতরের কক্ষ থেকে ওই নারীকে বের করে আনার চেষ্টা করেন কয়েকজন। তাৎক্ষণিক মাওলানা মামুনুল হক তাকে কক্ষের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।

এরপর তিনি বলেন, আপনারা যদি আমাকে প্রশ্ন করতে চান করেন, আমি উত্তর দেব। …আপনি কখন আসছেন এখানে? … গতকাল এসেছি। …আপনি কেমন হেফাজত করেন। …আপনি কোথায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন? …খুলনায়। এ সময় একজন বলেন, আপনি মহিলা নিয়ে ফষ্টি-নষ্টি করতে আসছেন। তখন উত্তেজিত কণ্ঠে মামুনুল হক বলেন, ‘না, এ কথা বলবেন না আপনারা। সে আমার বিবাহিতা স্ত্রী।’

এরপর হেফাজত নেতাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা যারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন, আপনাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’ একজন প্রশ্ন করেন, কে দুর্ব্যবহার করেছে? জবাবে মামুনুল হক বলেন, ‘আপনারা সবাই করেছেন।’ উপস্থিত একজন বলেন, এই রুমের ভাড়া ১২ হাজার টাকা। এত টাকা পায় কোথায়? তিনি বলেন, ‘আমি ফকিরনির ঘরের সন্তান না। আমার বাবা, …আমি জমিদার পরিবারের সন্তান। আমি আল্লাহর নামে শপথ করে…কসম করে বলতেছি, সে আমার বিবাহিতা স্ত্রী। পর্দানশীন মহিলা। শ্বশুরের নাম জাহিদুল ইসলাম। সে আমার স্ত্রী, বিশ্বাস করেন আপনারা। তার সাথে আপনারা খারাপ ব্যবহার করবেন না।’

একজন বলেন, কাবিননামা দেখান। আরেকজন বলেন, আচ্ছা আপনি প্রশ্নের উত্তর দেন, …কী প্রশ্নের উত্তর দেব? আমি কথা বলেতেছি তো। আপনাদের বড়দের সাথে কথা বলবো। এ সময় স্ত্রীর প্রমাণ দেখতে চান উপস্থিত লোকজন। …বলেন, ওসি তদন্ত আছেন। তখন মামুনুল হক বলেন, ‘উনি (ওসি তদন্ত তৌহিদুর রহমান) যুবলীগ-ছাত্রলীগের লোক নিয়ে এসেছেন। আপনারা যারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন, আমার স্ত্রীকে অপমান করেছেন, …এই আপনি মুখ খুলেন।… বিষয়টা এত সহজে মীমাংসা হবে না।’

এ সময় একজন ‘ওই… ওই’ শব্দ করে বলেন, ‘ওনি কীসের হুঙ্কার দেয়।’ জবাবে মামুনুল হক বলেন, ‘আপনারা আইনের কে? আমি এখানে কোনো অপরাধ করতে আসিনি। এত সহজ না। কোনো দুর্বলতা নিয়ে এখানে আসিনি। …কার গায় আপনি হাত তুলেছেন। আপনাকে আমি দেখে ছাড়বো।’ উপস্থিত একজন তখন বলেন, এই আপনি কী দেখবেন? মামুনুল হক বলেন, ‘আমি ফ্যামেলি নিয়ে এসেছি এখানে।’

পরে উপস্থিত লোকজনকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলতে শোনা যায়, আপনারা সরে যান। এই যান, যান। এই প্লিজ ভাই, আপনারা যান না…!

এরপর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ… তারা আমাকে নাজেহাল করেছে। আমি অবসর সময় কাটানোর জন্য এখানে এসেছি। আমরা এখানে বেড়াতে এসেছি। উচ্ছৃঙ্খল লোকজন এসে আমাদের অপমান করেছে। আমি কোনো অন্যায় করিনি। ডাকাতের মতো এসে অনেকে আমার এখানে ঢুকে পড়েছে। আমি অনেকের চেহারা চিনে রেখেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। সন্দেহ করছি, আমার মোবাইল, ঘড়ি অনেক কিছু ছিনতাই হয়েছে।’

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন বেড়াতে এলেন, এমন প্রশ্নে হেফাজতের কেন্দ্রীয় এ নেতা বলেন, আমাদের কি পারিবারিক জীবন নেই?

রয়েল রিসোর্টের ৫০১ কক্ষে স্ত্রীকে নিয়ে ছিলেন মাওলানা মামুনুল হক। পরে ওই রিসোর্টে স্থানীয় প্রশাসন, র‌্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন মাওলানা মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল।

এ দিকে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে হেফাজতের নেতা-কর্মীরা সন্ধ্যার দিকে উপস্থিত হয়ে ওই রিসোর্ট থেকে স্ত্রীসহ মাওলানা মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান।

সার্চ/অনুসন্ধান করুন