শুক্রবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার পরিণতি শুভ হবে না : নিতাই রায় চৌধুরী

০৮-নভে-২০২০ | jonmobhumi | 96 views

Spread the love

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার পরিণতি শুভ হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। রোববার এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘সোজা আঙ্গু্লে ঘি উঠবে না। আজকে এদেশে সংখ্যালঘুদের ওপরে যেভাবে অত্যাচার-নির্যাতন শুরু হয়েছে, সেই ৭২ সালে থেকে আজ পর্যন্ত যা তীব্রতর হয়েছে, সেই সংখ্যালঘুরা আজকে বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় প্রতিবাদমূখর হয়ে উঠছেন।’

‘আজকে আপনারা জানেন, রানা দাস গুপ্ত-সিআর দাস-নিম ভৌমিকরা তারা যে সংগঠন করে গিয়েছিলেন সেই রানা দাস গুপ্ত সেই সংগঠনের দায়িত্বে আছেন। তিনি কিন্তু একসময়ে এই আওয়ামী লীগের সাথে তারা সহযোগিতা করতেন আজকে তারাও ফুঁসে উঠেছেন, প্রতিবাদ করছেন, আজকে বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন হচ্ছে। আজকে সংখ্যালঘুদের ওপর যে অত্যাচার হচ্ছে তা পৃথিবী লক্ষ্য করছে, সারা দেশ লক্ষ্য করছে। এর ফল শুভ হবে না।

চট্টগ্রামের রামুতে বৌদ্ধ বিহার আগুন দিয়ে পুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘রামুতে কি হয়েছিলো? শেখ হাসিনার নির্দেশে সেখানে তাদের ভবন করে দেয়া হয়েছে। কাঠের মন্দিরকে কংক্রিটের মন্দিরে পরিণত করা হয়েছে। কিন্তু রামুর সেই মন্দিরের প্রধান সেবায়েত তিনি বলেছেন, ভবন সুন্দর হয়েছে বড় আরাম লাগছে কিন্তু মনের মধ্যে কোনো শান্তি নাই। কারণ যারা আগুন দিয়েছে সেই আসামিরা আমার চোখের সামনে ঘোরাফেরা করছে।’

‘এই প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে রানা দাস গুপ্তের পাশে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল দুঃখ করে বলেছেন যে, আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়েদের সম্ভমহানি করা আওয়ামী লীগের সাংবিধানিক অধিকারে পরিণত হয়ে্ছে। এগুলো তাদের কথা আমাদের কথা নয়।’

যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আজকে সারা দেশে ধর্মের দিক থেকে যারা সংখ্যায় কম তাদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, নিরাপত্তা নেই। এর পাশাপাশি যদি দেখি ধর্মের দিক থেকে সারা সংখ্যাগরিষ্ঠ তাদের প্রতিও সরকার উদাসীন।’

‘আজকে এখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সব একাকার হয়ে গে্ছে সরকারের কাছে। তারা ছাড়া, আওয়ামী লীগের দালাল ছাড়া আর কারো কোনো জীবনের নিরাপত্তা নেই।’

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন,  ‘গত ৭ মাসের ২৭টি প্রতিমা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে, বিভিন্ন জায়গা মন্দিরে হামলা করা হয়ে্ছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা-অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আমাদের মা-বোনরা প্রতিনিয়ত ধর্ষিতা হচ্ছেন তাদের কোনো নিরাপত্তা নেই।’

‘এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে বর্তমা্ন সরকারকে হটাতে হবে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘হিন্দু-বৌদ্ধ- খৃষ্টান ছাত্র-যুব ফ্রন্ট’ ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে সম্প্রতি কুমিল্লার মুরাদ নগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগসহ সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের প্রতিবাদে এই মানববন্ধন হয়।

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ছাত্র-যুব ফ্রন্টের ঢাকা মহানগর সভাপতি সঞ্জয় গুপ্তের সভাপতিত্বে এই মানববন্ধনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহবায়ক গৌতম চক্রবর্তী, বিএনপির অমলেন্দু দাস অপু, জয়দেব জয়,সুশীল বড়ুয়া, আকাশ ঘোষ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সার্চ/অনুসন্ধান করুন