সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সাবেক-বর্তমান দুই মেয়রের বিবাদ, যা বলছে আওয়ামী লীগ

১০-জানু-২০২১ | jonmobhumi | 335 views

Spread the love

রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা করার পর করপোরেশনের বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সাথে বিবাদ শুরু হয়েছে। ডিসেম্বর মাসের আট তারিখে রাজধানীর ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের দোকানগুলো নকশা বহির্ভূত এমন অভিযোগে ৯১১টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। ওই অভিযানের নেতৃত্ব দেন বর্তমান মেয়র ফজলে নূর তাপস।

এ দিকে অভিযানের সময় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে দেয়া টাকার বিনিময়ে দোকানগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ সময় ব্যবসায়ীরা দেখান, পাঁচটি পে অর্ডারের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে সিটি করপোরেশনকে।

তবে ডিসেম্বরের এ ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। পরে ব্যবসায়ীরা ওই সব পে অর্ডার আদালতে দাখিল করলে আদালত সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি গ্রহণ করে। পরে আদালত সাঈদ খোকন, নগরভবনের দুই কর্মকর্তাসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে তদন্তের আদেশ দেন পিবিআইকে। এরপর থেকেই সাবেক ও বর্তমান দুই মেয়রের মধ্যে বিবাদ সামনে চলে আসছে। সাঈদ খোকন একাধিকবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই সব ঘটনার জন্য বর্তমান মেয়রকে দায়ী করেন।

অভিযানের ওই মাসে সাঈদ খোকন গণমাধ্যমকে বলেন, এই অভিযান সিটি করপোরেশন পরিচালনা করেছে এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। দোকানদার যারা আছেন এবং মার্কেট যেখানে আছে তা বৈধ।

তিনি বলেন ‘আমি নিজ হাতে এসব দোকানদারদের কাগজপত্র দিয়ে এসেছি, বকেয়া রসিদ দিয়ে এসেছি। আমি আদালতের নির্দেশে আমাদের বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই দোকানগুলোর নকশার সংশোধনপূর্বক দোকানদারদের কাছ থেকে টাকা জমার আহ্বান জানিয়েছি। তাদের কাছ থেকে সাত থেকে আট বছরের টাকা বকেয়া ছিল। আমরা ওই বকেয়া টাকা বুঝে নিয়ে রসিদ দিয়েছি। তাদেরকে ব্যবসা পরিচালনা করার অনুমতি দিয়েছি।’

তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জন্য বর্তমান মেয়রকেই দায়ী করেছেন তিনি।

শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবারবর্গের ব্যানারে একটি মানববন্ধন হয়। ওই মানববন্ধনে সাঈদ খোকন আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন তাপসের বিরুদ্ধে।

এ দিকে সাঈদ খোকনের এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্যের বিষয়ে রোববার সাংবাদিকরা তাপসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কোনো কিছু বলে থাকেন তার জবাব আমি একটা দায়িত্বশীল পদে থেকে সমীচীন মনে করি না। যে অভিযোগ আনা হয়েছে কোনোভাবেই কোনো বস্তুনিষ্ঠ বক্তব্য না।’

আওয়ামী লীগ কীভাবে দেখছে?
সদ্য বিদায়ী বছরে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকন। আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয় ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসকে।

তাপসের ছেড়ে দেয়া আসনে সাঈদ খোকন নির্বাচন করতে চাইলে সেটাও তাকে না দিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনকে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হিসেবে আছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক এই মেয়র।

এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার একটি বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে আওয়ামী লীগ থেকে তার এই বক্তব্যকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের ফসল হিসেবে দেখা হয়।

এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক ও বর্তমান দুই মেয়রের বিবাদের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা নুহ উল আলম লেনিন বলেন, ‘এই দু’জন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের যদি কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকে তা তারা পারস্পরিক আলোচনার মধ্যে দিয়ে এটার সমাধান করতে পারেন। অথবা পার্টির উচ্চতর ফোরামে উত্থাপন করতে পারেন।

দলের মধ্যে এনিয়ে কোনো অস্বস্তি আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যেহেতু তাদের বেশ কিছু বিকল্প আছে, প্রকাশ্যে এই বিতর্কটা খুব শোভন না। পার্টির ডিসিপ্লিন মানতে হলে পার্টির অভ্যন্তরীণ বিষয় বাইরে যাবে না।’

সূত্র : বিবিসি

সার্চ/অনুসন্ধান করুন