সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি.
সাপ্তাহিক জন্মভূমি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভ

০৬-ফেব্রু-২০২১ | jonmobhumi | 311 views

Spread the love

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে দেশটির প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ। শনিবার ক্ষমতাচ্যুত নেতা অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভকারীরা ‘সামরিক স্বৈরাচার ব্যর্থ হোক, গণতন্ত্রের জয় হোক’ স্লোগান দেয়। ‘সামরিক একনায়কের বিরুদ্ধে’ লেখা ব্যানার বহনের সাথে সাথে সু চির দল এনএলডির প্রতীক লাল পোশাক পরে বিক্ষোভকারীরা সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেয়।

এর আগে সোমবার মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী, তাতমাদাও দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থান ঘটায় এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। সাথে সাথে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বেসামরিক প্রশাসনের সাথে সামরিক বাহিনীর কয়েক দিনের দ্বন্দ্বের পর এই অভ্যুত্থান ঘটে। ওই নির্বাচনে সুচির নেতৃত্বের ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) জয় লাভ করে, যা তাতমাদাও অস্বীকার করেছে।

শনিবারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওচিত্রে পুলিশের ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন রোড ও হ্লেদান জংশনের সংযোগ সড়কে বন্ধ করে দিতে দেখা যায়।

বিক্ষোভকারীরা তিন আঙ্গুলের প্রতিবাদী চিহ্ন উঁচিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করে। পাশাপাশি প্রাইভেট কার ও পাবলিক বাসের ড্রাইভাররা হর্ন বাজিয়ে বিক্ষোভের সাথে সংহতি প্রকাশ করে।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে সামরিক জান্তা মিয়ানমারে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে।

২০১১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সেনা শাসনের অধীনে থাকা মিয়ানমারে দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা জেনারেল অং সানের মেয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এর আগে, ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর গৃহবন্দিত্বে ছিলেন সুচি। গণতন্ত্রের জন্য তার সংগ্রামের কারণে ১৯৯১ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার জয় করেন।

কিন্তু ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম অধিবাসীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে সু চি আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। সেনাবাহিনীর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যথার্থ ব্যবস্থা ও প্রতিবাদ জানাতে ব্যর্থতায় সাবেক সমর্থকরা তার নিন্দা করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বর্তমানে ওই অভিযানে মিয়ানমারের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত করছে।

সূত্র : আলজাজিরা

সার্চ/অনুসন্ধান করুন